টানা এক মাস ভাজাপোড়া খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন আসতে পারে
· Prothom Alo

ঐতিহ্যগতভাবেই বাঙালি বাড়ির ইফতারে ভাজাপোড়া খাবারের আয়োজন থাকে। এমনকি খিচুড়ি, হালিম বা অন্যান্য ভারী খাবার থাকলেও ভাজাপোড়া বাদ দিতে পারেন কম মানুষই। রেস্তোরাঁয়ও চলে একই ধারা। তবে এক মাস এভাবে ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। এতে নানা পরিবর্তন আসে দেহে। এ সম্পর্কে স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন-এর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
বাড়বে ওজন
ভাজাপোড়া খাবারে থাকে বাড়তি ক্যালরি আর বাড়তি লবণ। দুটোই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বাড়তি ক্যালরি গ্রহণ মানেই ওজন বাড়ার ঝুঁকি। এতটা বাড়তি ক্যালরি পোড়ানোর মতো শরীরচর্চা করেন না অধিকাংশ মানুষই। বিশেষত রমজান মাসে নিয়মিত এতটা ভারী ব্যায়াম করা হয়ে ওঠে না।
বাড়তি লবণের জন্যও ওজন বাড়তে পারে। কারণ, লবণের বৈশিষ্ট্যই হলো পানি ধরে রাখা। খাবারে থাকা অন্যান্য উপাদানের মতো লবণও আমাদের রক্তে শোষিত হয়। লবণের উপস্থিতিতে রক্তে পানির পরিমাণ বাড়ে। এই পানি আবার দেহের কোষের মাঝে থাকা ফাঁকা অংশে জমা হয়। এই পানির কারণেও ওজন কিছুটা বাড়ে।
পিপাসা মেটানো কঠিন হবে
ভাজাপোড়া খাবারে থাকা বাড়তি লবণের কারণে রক্তনালি এবং দেহের কোষের মাঝের অংশে পানি বেশি থাকে। কিন্তু কোষের মধ্যকার পানির পরিমাণ কমে যায়। অর্থাৎ দেহে পর্যাপ্ত পানি থাকা সত্ত্বেও দেহের কোষগুলো পানির স্বল্পতায় ভোগে।
তাই বারবার পিপাসা লাগে। মাসজুড়ে যদি আপনি ভাজাপোড়া খেতেই থাকেন এবং দেহের চাহিদা মেটাতে ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বাড়তি পানি পান না করেন, তাহলে পানিশূন্যতায় ভুগতে হতে পারে।
ইফতারে ভাজাপোড়া খাবার আমাদের দেশে একরকম ঐতিহ্যপেটের গোলমাল
ভাজাপোড়া খাবার পেটের জন্য একেবারেই ভালো নয়। নিয়মিত এ ধরনের খাবার খেলে অ্যাসিডিটির প্রবণতা বাড়ে। খাবার খাওয়ার পর তা গলার দিকে উঠে আসতে চাচ্ছে বলেও মনে হতে পারে। পরবর্তী সময়ে পাকস্থলীর প্রদাহের ঝুঁকিও বাড়ে।
ঝুঁকিপূর্ণভাবে চর্বি জমতে থাকবে
বাড়তি ক্যালরি দেহে জমা হয় চর্বি হিসেবে। এ চর্বি জমতে থাকে রক্তে এবং রক্তনালির প্রাচীরে। লিভার এবং পেটের ভেতরকার অন্যান্য অঙ্গের আশপাশেও চর্বি জমা হয়। এভাবেই হয় ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। ভুঁড়িও বাড়তে থাকে।
বাড়তি ওজন এবং রক্তনালির প্রাচীরে জমা হওয়া চর্বির কারণে দীর্ঘমেয়াদি অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও বাড়বে। উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগের পেছনে অনেক ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দায়ী। সব মিলিয়ে পরবর্তী সময়ে হৃদ্রোগ এবং স্ট্রোকের মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।
শেষ কথা
সুস্থ থাকার জন্য ইফতারে বেগুনি-পেঁয়াজুর মতো পদ যে একেবারে বাদ দিতে হবে, তা নয়। মাঝে মাঝে এগুলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। শরীর সুস্থ রাখতে বরং চিড়া, টক দই, ফলমূল, সবজির সালাদ এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নিন ইফতারের জন্য।
চিড়া, টক দই, ফলমূল, সবজির সালাদের মতো খাবার বেছে নিতে পারেন ইফতারে