যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তি ‘হাতের নাগালে’ বললেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কয়েক ঘণ্টা পরই হামলা
· Prothom Alo

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত না রাখার (শূন্যে নামিয়ে আনা) বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল–বুসাইদি। তিনি এই অগ্রগতিকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার এই বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানে হামলা চালিয়ে বসেছে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার। আজ শনিবার ভোরে দেশটি তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, যেসব বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো কয়েক মাসের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে পুরোপুরি সমাধান করে একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়া সম্ভব।
বদর বিন হামাদ আরও বলেন, ‘একটি শান্তিচুক্তি আমাদের হাতের নাগালে …যদি কেবল কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে যা প্রয়োজন, তা আমরা দিতে পারি।’
শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল-বুসাইদি।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওমানের উদ্যোগে কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় তৃতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বদর বিন হামাদ বলেন, ‘যদি চূড়ান্ত লক্ষ্য হয় এটা নিশ্চিত করা যে ইরানের কখনোই পারমাণবিক বোমা থাকবে না—আমি মনে করি, আমরা এই আলোচনার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান করে ফেলেছি। একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিতে সম্মত হওয়া, যা আগে কখনো অর্জন করা যায়নি।’
জেনেভায় ইরানের আলোচক দল। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো তেহরানের এ বিষয়ে সম্মত হওয়া যে ইরান কখনোই এমন পারমাণবিক উপাদান রাখবে না, যা বোমা তৈরি করতে সক্ষম হবে। এখন আমরা শূন্য মজুত নিয়ে কথা বলছি, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যদি আপনি সমৃদ্ধ উপাদান মজুত রাখতে না পারেন, তাহলে বাস্তবে বোমা তৈরি করার কোনো উপায় থাকে না।’
ইরান তাদের পারমাণবিক উপাদানের বর্তমান মজুতও ‘সর্বনিম্ন স্তরে’ নামিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান ওমানের এই শীর্ষ কূটনীতিক, যাতে সেগুলো জ্বালানিতে রূপান্তরিত হয় এবং সেগুলো পুনরায় বোমার উপাদান হিসেবে ব্যবহারযোগ্য না থাকে।
বদর বিন হামাদ বলেন, ‘এটি একেবারেই নতুন কিছু। এটি সত্যিই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিতর্ককে কম প্রাসঙ্গিক করে তোলে। কারণ, এখন আমরা শূন্য মজুত নিয়ে কথা বলছি।’
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, ইরান সব বিষয় নিয়ে আলোচনার দ্বার খোলা রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে আসলেই কি সামরিক স্থাপনা মেরামত ও পরমাণু কেন্দ্র সুরক্ষিত করছে ইরানজেনেভায় সর্বশেষ আলোচনায় যে অগ্রগতি তা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে সম্ভাব্য হামলা থেকে বিরতি রাখতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আল–বুসাইদি বলেন, ‘আমি এমনটা আশা করি।’
জেনেভায় হওয়া ওই আলোচনা নিয়ে শুক্রবার কথা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাঁরা যেভাবে আলোচনা করছে, তাতে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। ইরানের উচিত একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়া। একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।’
পরে ট্রাম্প আরও বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক শক্তি ব্যবহার না করতে হয়, তিনি সেটি করতেই পছন্দ করবেন; কিন্তু কখনো কখনো সেটি করতেই হয়।
কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা, কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত