খাদিজা (রা.)–এর বিদায়, নিজামুল মুলক হত্যাকাণ্ড
· Prothom Alo

ইসলামি ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে ১০ রমজান দিনটি ‘সার্বভৌমত্ব ও সম্মান পুনরুদ্ধারের দিন’ হিসেবে চিহ্নিত।
এই দিনে একদিকে মহানবী (সা.) তাঁর জীবনের সবথেকে বড় মানসিক অবলম্বন হারিয়েছেন, তেমনি আধুনিক যুগে মুসলিম সামরিক শক্তি তাঁদের হৃত গৌরব ফিরে পাওয়ার স্বাদ পেয়েছিল।
Visit sportnewz.click for more information.
‘আমুল হুজন’ বা শোকের বছর
নবুয়তের দশম বছর (হিজরতের ৩ বছর পূর্বে), ১০ রমজান মহানবী (সা.)-এর জীবনের অন্যতম শোকাবহ দিন। এই দিনে নবীজির প্রিয়তম সহধর্মিনী হজরত খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.) ইন্তেকাল করেন। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাববিয়্যাহ, ২/৪১১, ১৯৫৫)
চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর অল্প কিছুকাল পরেই খাদিজা (রা.)-এর বিদায় নবীজির জীবনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করে, যা ইতিহাসে ‘আমুল হুজন’ বা শোকের বছর হিসেবে পরিচিত।
তিনি ছিলেন ইসলামের সেই ‘অভ্যন্তরীণ দুর্গ’, যিনি মক্কায় ইসলামের প্রাথমিক দিনগুলোতে নবীজিকে সব ধরনের সামাজিক ও মানসিক সুরক্ষা দিয়েছিলেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/১২৭, ১৯৮৮)
রমজানে আলোকসজ্জার সূচনা, ফিলিস্তিনে ‘নাকবা’র ক্ষতমক্কা বিজয়ের পথে
এর দশ বছর পর, ৮ হিজরির ১০ রমজান, সেই করুণ স্মৃতিবিজড়িত দিনে দশ হাজার সাহাবির এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪/২৮৫, ১৯৮৮)
কোরাইশদের পক্ষ থেকে হোদাইবিয়ার সন্ধি ভঙ্গের প্রেক্ষাপটে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এই যাত্রাই পরে ২০ রমজান মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে আরবে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করে। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাববিয়্যাহ, ৪/৪২, ১৯৫৫)
নিজামুল মুলক হত্যাকাণ্ড
৪৮৫ হিজরির ১০ রমজান (১০৯২ খ্রিষ্টাব্দ) মুসলিম বিশ্ব তাঁর শ্রেষ্ঠ প্রশাসনিক মস্তিষ্ককে হারায়। এই দিনে সেলজুক সাম্রাজ্যের বিখ্যাত উজির নিজামুল মুলক নাসিরুিদ্দন তুসিকে গুপ্তঘাতক দল ‘হাশাশিনরা’ হত্যা করে। (ইবনে আসির, আল-কামিল ফিত তারিখ, ১০/২১০, ১৯৮৭)
তিনি কেবল একজন উজির ছিলেন না, বরং ছিলেন বিখ্যাত ‘নিজামিয়া মাদ্রাসা’র প্রতিষ্ঠাতা এবং ‘সিয়াসাতনামা’ গ্রন্থের লেখক। ইতিহাসবিদদের মতে, তাঁর মৃত্যু ছিল সেলজুক সাম্রাজ্যের ভাঙনের সূচনাবিন্দু (ইমাম জাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১৯/৯৪, ১৯৮৫)
আল-আজহার মসজিদের যাত্রা, ভূমধ্যসাগরে অভিযানলুইসের স্বপ্নভঙ্গ ও মানসুরা যুদ্ধ
১২৫০ খ্রিষ্টাব্দে মিসরের মানসুরায় ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। যদিও মূল যুদ্ধগুলো বসন্তকালে হয়েছিল, তবে ১০ রমজান মিসরীয়দের স্মৃতিতে সপ্তম ক্রুসেডের পরাজয়ের প্রতীক হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
এই প্রতিরোধের মাধ্যমেই ফ্রান্সের রাজা নবম লুইসের মিসর দখলের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয় এবং তাঁকে বন্দি করা হয়। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৩/১৮০, ১৯৮৮)
অক্টোবর যুদ্ধ
১৩৯৩ হিজরির ১০ রমজান (৬ অক্টোবর ১৯৭৩) আধুনিক সামরিক ইতিহাসের স্মরণীয় দিন। এই দিন দুপুর ২টায় মিশরীয় সেনাবাহিনী সুয়েজ খাল অতিক্রম করে এবং ইসরায়েলের ‘বার লেভ লাইন’ ধ্বংস করে দেয়।
এই যুদ্ধ ‘রমজান যুদ্ধ’ নামেও পরিচিত। এর ফলে সিনাই উপদ্বীপ পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত হয়।
সিন্ধু বিজয় ও ‘আম্মুরিয়া’ পতনের ইতিহাস