বৃষ্টিতেও হাল ফিরছে না ঢাকার বাতাসের, কেন এমন হচ্ছে
· Prothom Alo
রাজধানীতে গতকাল বুধবার রাতে ঝুম বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৩২ মিলিমিটার। বৃষ্টি শেষে রাতের আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। বৃষ্টি হলে ঢাকার বাতাসের হাল ফেরে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার বাতাসে সেই বৃষ্টির কোনো প্রভাব নেই। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইকিউএয়ারে বাতাসের মান ছিল ১৫৩। বাতাসের এ অবস্থাকে অস্বাস্থ্যকর বলে ধরা হয়। বিশ্বের ১১৮ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল অষ্টম।
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালে বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল থাইল্যান্ডের চিয়াংমাই। এ শহরের বায়ুর মান ছিল ২৭৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সেনেগালের ডাকারের বায়ুর মান ছিল ২৩১।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
গত নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সাধারণত বায়ুর মান খুব খারাপ থাকে ঢাকার। চলতি বছরেও এর ভিন্নতা দেখা যায়নি। ঢাকার বাতাস ভালো হয় বৃষ্টিতে। গত প্রায় ১০ দিনে একাধিকবার বৃষ্টি হয়েছে রাজধানীতে। কিন্তু তাতে বাতাসের মানের কোনো উন্নতিই হয়নি।
কেমন এমন হচ্ছে, জানতে চাইলে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর মান হয়তো ৫০–এর মতো কমে আসে। কিন্তু দ্রুতই তা বাড়তে থাকে। কারণ, এ নগরীতে ফিটনেসবিহীন গাড়ির কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের দূষণ, রাস্তার ধুলাবালু ইত্যাদি একটুকুও কমেনি।
বৃষ্টির পরও ঢাকার বায়ুর মান তেমন ভালো হয়নি। এ দূষণ কমাতে প্রকল্প, পরিকল্পনা কিংবা প্রতিশ্রুতির কমতি নেই। তারপরও দূষণ কেন?
আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ কমানোর জন্য পরিকল্পনার কথা শুনতে পাচ্ছি। কিন্তু এর কোনো বাস্তবায়ন তো দেখছি না।
বায়ুদূষণে ২০১৯ সালে দেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে মোট দেশজ উৎপাদনের ক্ষতি প্রায় ৮ শতাংশ বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজকের বেশি দূষিত এলাকাগুলো
আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে আছে পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি। এ এলাকার বায়ুমান ১৬৫। এরপর যথাক্রমে আছে গুলশানের বে’জ এইজ ওয়াটার (১৬৩), সাগুফতা (১৫৫), বারিধারা পার্ক রোড (১৫৪)।
সুরক্ষায় নগরবাসী যা করবেন
আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, আজ ঢাকায় বায়ুর যে মান, তাতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে।