মুক্তিযুদ্ধ আমাদের দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয় ও মর্যাদা

· Prothom Alo

‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা হঠাৎ করে আসেনি, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস। ভাষা আন্দোলন থেকে গণ–অভ্যুত্থান—এই ধারাবাহিক লড়াইয়ের ফলেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করি। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শুধু একটি দেশ নয়, দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয় ও মর্যাদা। শহীদের রক্তে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে সম্মান ও রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং সেই চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।’

৩১ মার্চ দুপুরে রাজশাহীতে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে ডাঁশমারী উচ্চবিদ্যালয়ে এ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। এতে বিদ্যালয়ের ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

Visit freshyourfeel.org for more information.

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা

বন্ধুসভার উপদেষ্টা তুহিনুজ্জামান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি ঘটনা নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি। এই স্বাধীনতা কোনো সহজ অর্জন নয়; অসংখ্য ত্যাগ, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা এই দেশ পেয়েছি। তাই মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য হৃদয়ে গভীরভাবে আঘাত করে। তাঁদের যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’

ডাঁশমারী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাস জানার আগ্রহ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সহকারী শিক্ষক নূরী সাইমা বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের প্রতিষ্ঠানে এর আগে কখনো হয়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছে এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম আরও গভীর হচ্ছে।’

সহকারী শিক্ষক নীলোৎপল সরকার বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের চেতনার দীপ্ত আলো এবং জাতির অহংকারের সর্বোচ্চ প্রতীক।’

বন্ধুসভার সভাপতি সুইটি রাণী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একটি চেতনার জাগরণ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস, ত্যাগ ও বীরত্বের গৌরবগাথা নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

বিজয়ী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অতিথি ও বন্ধুসভার বন্ধুরা

আলোচনা সভা শেষে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের কুইজ বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম হয়েছে রুমাইয়া আক্তার, দ্বিতীয় আনিকা আনজুম, তৃতীয় সুমাইয়া খানম, চতুর্থ রুপন্তি শাম্মি আক্তার এবং পঞ্চম হয়েছে টুপুর তাননিন আরা।

প্রথম স্থান অধিকারী রুমাইয়া আক্তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলে, ‘এই অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেক নতুন বিষয় জানতে পেরেছি। এমন আয়োজন আমাদের দেশপ্রেম ও ইতিহাস জানার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রাবন্তী সরকার, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মুয়াজ্জিন হোসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ইফফাত আরা ইনাম, ম্যাগাজিন সম্পাদক জুবায়ের ফাহিম হাসান এবং সদস্য ফজলে রাব্বী।

সভাপতি, রাবি বন্ধুসভা

Read at source