মুক্তিযুদ্ধ মাথা উঁচু করে কথা বলতে শেখায়

· Prothom Alo

‘আপসের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যই দীর্ঘস্থায়ী এবং সত্যিকারের জয়। কিন্তু স্বাধীনতা আমরা আপসে পাইনি। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর কষ্টে অর্জিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হঠাৎ করে হয়নি। ১৯৪৭-এর দেশভাগের পরে ধাপে ধাপে সংগ্রাম করতে করতে স্বাধীনতার ডাক দেওয়া হয়েছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুখে নয়, মনে ধারণ করে চলতে হবে।’

Visit rouesnews.click for more information.

৩১ মার্চ মাদারীপুর শহরের আলহাজ আমিনউদ্দিন হাইস্কুলের একটি কক্ষে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানে এ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে মাদারীপুর বন্ধুসভা। এতে অংশ নেয় ১২০ শিক্ষার্থী। বিজয়ী পাঁচজন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথিরা।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম শুরু হয়েছে ছাত্রদের দিয়ে। নবম শ্রেণিতে যখন পড়ি, তখন থেকে সংগ্রামের পথ ধরেছি। আমি সৌভাগ্যবান যে মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য লড়াই করতে পেরেছি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামের ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ, যা সত্যিই মাথা উঁচু করে কথা বলতে শেখায়। শিক্ষার্থীদের শুধু বলব, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধারণ করে তোমরা সততার সঙ্গে থেকো। সততাই তোমাদের বড় করবে, সাহসী হিসেবে গড়ে তুলবে এবং সংগ্রামী করে তুলবে। আর নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখো।’

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরণ করার আহ্বান জানিয়ে আলহাজ আমিনউদ্দিন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আকমল হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ হঠাৎ করে আসেনি। ১৯৪৭–এর দেশভাগের পরে প্রথম সংগ্রাম শুরু ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। পরে ১৯৫৪ সালে সংবিধান, ১৯৫৬ সালে ছাত্র আন্দোলন, ১৯৬২ সালে ছাত্র আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা, ১৯৬৯ সালে গণ–অভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ডাক। ৯ মাস যুদ্ধের পরে ২০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি।’

মাদারীপুরে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’–এ বিজয়ী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অতিথিরা

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আসলে কী? চেতনা মানে সাম্য ও মানবিক মর্যাদা, শোষণমুক্ত সমাজ ও অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য। সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে এই চেতনাকে অবশ্যই ধারণ করতে হবে, মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে হবে,’ যোগ করেন সৈয়দ আকমল হোসেন।

মাদারীপুর বন্ধুসভার সভাপতি আঞ্জুমান জুলিয়ার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা সোহেল রানা, প্রথম আলোর মাদারীপুর প্রতিনিধি অজয় কুন্ডু, বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক এইচ এম হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভার সহসভাপতি শাহাদাত আকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ সরদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাঁধন খান, অর্থ সম্পাদক আন্না আক্তার, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক কামরুল হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক রিয়া মনি, সদস্য আল শাহরিয়াত করিম, তরিকুল ইসলাম, ইরান শিকদার প্রমুখ।

Read at source