বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে ১০ বছরে ৬ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার পাচার

· Prothom Alo

বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে গত ১০ বছরে ৬ হাজার ৮৩০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। বর্তমান বাজারদরে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ৮ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রতিবছর গড়ে ৬৮৩ কোটি ডলারের বেশি পাচার হয়।

Visit syntagm.co.za for more information.

২৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) বাণিজ্যের আড়ালে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে অর্থ পাচার–সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের এই চিত্র উঠে আসে। প্রতিবেদন অনুসারে, এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে অর্থ পাচার হওয়া ১০টি দেশের একটি হলো বাংলাদেশ।

মূলত আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে অর্থ পাচারের কৌশলকে এখানে তুলে আনা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অর্থনীতি নিয়ে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রতিবেদন দিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। ওই সময়ের বাজারদরে (প্রতি ডলারের দাম ১২০ টাকা) এর পরিমাণ ২৮ লাখ কোটি টাকা। এই হিসাবে প্রতিবছর গড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আর্থিক খাতের রাঘববোয়াল (ক্রীড়নক), আমলা ও মধ্যস্বত্বভোগীরা এই পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন।

জিএফআইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬৮৩ কোটি ডলার পাচার হয়, যা মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ১৬ শতাংশের সমান। যার বড় অংশই বাণিজ্যের মূল্য কারসাজির (মিথ্যা ঘোষণা) মাধ্যমে হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট পাচার হওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ২৮০ কোটি ডলার উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোয় গেছে। বাংলাদেশ বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের ঝুঁকি বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের অর্থ পাচার উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য বড় বাধা। এতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ দুর্বল হয়, কর রাজস্ব কমে যায় এবং জনসেবা ও অবকাঠামো বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংকুচিত হয়।

জিএফআইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, বড় অর্থনীতির দেশগুলোর বাণিজ্য বেশি হওয়ায় সেখানে অবৈধ অর্থের প্রবাহ বা পাচার বেশি দেখা যায়। যেমন এক দশকে চীনে ৬ দশমিক ৯৬ ট্রিলিয়ন ডলার, থাইল্যান্ডে ১ দশমিক ১৮ ট্রিলিয়ন ও ভারতে ১ দশমিক শূন্য ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। মোট বাণিজ্যের বার্ষিক হিসাবে চীনের প্রায় ২৫ শতাংশ ও ভারতের প্রায় ২২ শতাংশ এভাবে অর্থ পাচার হয়।

পাচার ঠেকাতে শুল্ক ব্যবস্থাপনা জোরদার, আঞ্চলিক চুক্তির মাধ্যমে তথ্য বিনিময় বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে স্বচ্ছতা বাড়ানো ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের সুপারিশ করেছে জিএফআই।

Read at source