বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গাড়ির সবচেয়ে নিরাপদ আসন

· Prothom Alo

ব্যক্তিগত গাড়ি বা মাইক্রোবাসে কোথাও যাওয়ার সময় আমরা সাধারণত সবচেয়ে আরামদায়ক আসনটি খুঁজি। অনেকে ভাবেন, কোন আসনে বসলে বাইরের দৃশ্য ভালো দেখা যাবে। আবার কেউ খোঁজেন কোথায় বসলে এসির বাতাস বেশি পাওয়া যাবে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, আপনার বেছে নেওয়া সেই আসন কতটা নিরাপদ?

গাড়িতে বসার সময় আমরা অনেকেই ভাবি না কোন আসনটি সবচেয়ে নিরাপদ

গাড়ির সব আসন কিন্তু সমান সুরক্ষা দেয় না। সড়ক দুর্ঘটনার বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা একটি বিশেষ আসনের কথা বলেছেন। এটি অন্য সব আসনের চেয়ে বেশি নিরাপদ। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেও এই জায়গায় বসে থাকা মানুষের অক্ষত থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

Visit orlando-books.blog for more information.

সাধারণত সেই আসনে কেউ বসতে চান না। কারণ, সেখানে বসলে বাইরের দৃশ্য ভালোভাবে দেখা যায় না বা আরাম কম মনে হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে এটিই গাড়ির আসল ‘সেফ জোন’।

অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তিবিদেরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, কেন ঠিক ওই আসনই দুর্ঘটনার সময় সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।

গাড়ির সবচেয়ে নিরাপদ আসন কোনটি

গাড়িতে বসার সময় আমরা অনেকেই ভাবি না কোন আসনটি সবচেয়ে নিরাপদ। অটোমোটিভ–বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ যাত্রীর জন্য গাড়ির পেছনের সারির মাঝখানের আসনটি সবচেয়ে নিরাপদ।

এ তথ্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে হাইওয়ে সেফটির জন্য কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা আইআইএইচএস।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামনের বা পেছনের অন্য আসনগুলোর তুলনায় মাঝখানের আসনে বসলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকি ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যায়।

ভ্রমণে নেক পিলো বা কলার ব্যবহার কি সত্যিই উপকারী

আসনটি কেন এত নিরাপদ

গাড়ির পেছনের মাঝখানের আসনটি নিরাপদ হওয়ার মূল কারণ দূরত্ব। গাড়ির চারপাশের বিপজ্জনক অংশগুলো থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে আসনটি। ফলে কোনো সংঘর্ষ হলে মাঝখানের যাত্রী সরাসরি আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাড়তি জায়গা পায়।

গাড়ির সামনের অংশটি এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় সেটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার বেশির ভাগ ধকল নিজে নিতে পারে। প্রযুক্তিবিদেরা ইচ্ছা করেই এটি করেন, যাতে যাত্রীদের ওপর ধাক্কার গতি কমে আসে।

কিন্তু কেউ নিশ্চয়ই সেই দুমড়েমুচড়ে যাওয়া জায়গার ঠিক পাশেই বসে থাকতে চাইবেন না। গাড়ির পাশে ধাক্কা লাগলে দরজা বা পাশের প্যানেল দিয়ে সরাসরি আঘাত যাত্রীর শরীরে আসে। তাই দুই পাশের আসনগুলো মাঝখানের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

মাঝখানের আসনটি ড্যাশবোর্ড ও দরজা উভয় জায়গা থেকেই বেশ দূরে থাকে। সাধারণত দুর্ঘটনার প্রথম আঘাতগুলো এসব জায়গাতেই লাগে। বর্তমান সময়ের আধুনিক গাড়িগুলোয় মাঝখানের আসনেও শক্ত সিট বেল্ট থাকে। কোনো কোনো গাড়িতে পাশের এয়ারব্যাগগুলো মাঝখানের যাত্রী পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়।

সিট বেল্টের সঠিক ব্যবহার, আঘাতের জায়গা থেকে দূরত্ব ও গাড়ির মজবুত কাঠামো—এই তিনটি বিষয় মিলেই মাঝখানের আসনটিকে সবচেয়ে নিরাপদ করে তোলে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামনের বা পেছনের অন্য আসনগুলোর তুলনায় মাঝখানের আসনে বসলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকি ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যায়

নিরাপত্তা কি গাড়ির ধরনের ওপর নির্ভর করে

হ্যাঁ, গাড়ির ধরনের ওপর ভিত্তি করে নিরাপত্তার বিষয়টি কিছুটা বদলাতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বেশির ভাগ গাড়ির ক্ষেত্রেই পেছনের মাঝখানের আসনটিই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।

সেডান গাড়ির ক্ষেত্রে পেছনের মাঝখানের সিটটি সবচেয়ে সুরক্ষিত। কারণ, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে গাড়ির সামনের ও পাশের অংশগুলো আঘাতের ধাক্কা নিজেরা নিয়ে নেয়। ফলে মাঝখানে থাকা ব্যক্তিটি সরাসরি আঘাত থেকে বেঁচে যায়।

তবে এসইউভি বা পিকআপ ট্রাকের মতো উঁচু গাড়ির ক্ষেত্রে পেছনের দুই পাশের আসনগুলোও মাঝখানের আসনের মতোই নিরাপদ। কারণ, এসব গাড়ি মাটি থেকে বেশ উঁচুতে থাকে এবং এদের পাশের কাঠামো অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে যদি পাশের আসনগুলোয় এয়ারব্যাগ থাকে, তবে সেসবও যথেষ্ট সুরক্ষা দেয়।

যাঁরা মিনিভ্যান ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য গাড়ির দ্বিতীয় সারিটি সবচেয়ে ভালো জায়গা। এই সারি সামনের অংশ থেকে বেশ দূরে থাকে, যেটা শেষের সারির তুলনায় বেশি নিরাপদ। কারণ, তৃতীয় সারিটি গাড়ির একেবারে পেছনের বাম্পারের কাছে থাকে, যা পেছন থেকে কোনো ধাক্কা লাগলে বেশ বিপজ্জনক হতে পারে।

তবে এখানে একটি জরুরি বিষয় মনে রাখা দরকার। সব গাড়ির মাঝখানের আসন একইভাবে তৈরি হয় না। কিছু গাড়িতে মাঝখানের আসনটি ভাঁজ করা থাকে, অথবা সেখানে সিট বেল্ট থাকে না।

যেকোনো আসনে বসার আগে সেখানকার সিট বেল্ট ও এয়ারব্যাগের সুবিধা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। সঠিক সিট বেল্ট না থাকলে মাঝখানের আসনটি আর নিরাপদ থাকে না।

দুর্ঘটনার ধরনের ওপর কি নিরাপত্তা নির্ভর করে

দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী গাড়ির ভেতরের পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পেছনের মাঝখানের সিটটিই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। একেক ধরনের দুর্ঘটনায় গাড়ির একেক অংশে আঘাত লাগে।

ধরুন, মুখোমুখি সংঘর্ষ হলো। এ ক্ষেত্রে সামনের চেয়ে পেছনের আসনগুলো অনেক বেশি নিরাপদ। কারণ, গাড়ির সামনের অংশটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার বেশির ভাগ ধাক্কা নিজে সামলে নেয়। ফলে পেছনের যাত্রীরা সরাসরি আঘাত থেকে বেঁচে যায়।

আবার যদি গাড়ির পাশে কোনো ধাক্কা লাগে, তবে দুই পাশের আসনে থাকা ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েন। এখানেই মাঝখানের সিটের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এই আসন দুই পাশের দরজা থেকেই সমান দূরত্বে থাকে। ফলে সরাসরি আঘাত সেখানে পৌঁছাতে পারে না।

এমনকি গাড়ি যদি উল্টে যায়, তাহলেও মাঝখানের আসনটিই সবচেয়ে নিরাপদ। এতে গাড়ির দরজা বা ছাদের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার ভয় অনেক কমে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেকোনো ধরনের সংঘর্ষেই যদি সঠিক সিট বেল্ট ব্যবহার করা হয়, তবে মাঝখানের সিটে বড় কোনো আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে কম থাকে।

গাড়ি চালানোর সময় নিরাপত্তা আর কিসের ওপর নির্ভর করে

আপনি কোন আসনে বসলেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আপনার গাড়ি চালানোর ধরন। আপনার গতি, মনোযোগ ও সিট বেল্ট ব্যবহারের ওপর নিরাপত্তা অনেক বেশি নির্ভর করে।

গাড়ির ভেতর বিষাক্ত গ্যাস, সন্দেহ হলে কী করবেন

সিট বেল্টের সঠিক ব্যবহার

আপনি সিট বেল্ট না পরলে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ আসনটিও কোনো কাজে আসবে না। সিট বেল্ট ভুলভাবে পরলে আঘাতের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বেল্ট লাগাতে মাত্র তিন সেকেন্ড সময় লাগে, যা আপনার জীবনের জন্য অনেক মূল্যবান।

গাড়ি চালানোর অভ্যাস

অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো বা গাড়ি চালানোর সময় ফোন ব্যবহার করা দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। এমনকি ক্লান্ত শরীরে গাড়ি চালানো বা শিশুদের চিৎকারে মনোযোগ হারানোও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই গাড়ি চালানোর সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকা জরুরি।

আপনি সিট বেল্ট না পরলে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ আসনটিও কোনো কাজে আসবে না

গাড়ির যত্ন নেওয়া

গাড়ির টায়ার পুরোনো হওয়া বা ব্রেক ঠিকমতো কাজ না করা বিপদের কারণ হতে পারে। নিয়মিত গাড়ির যত্ন না নিলে জরুরি মুহূর্তে গাড়ি আপনাকে সুরক্ষা দিতে পারবে না। তাই গাড়ির কোনো যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা করা ঠিক নয়।

বসার ভঙ্গি

নিরাপদ থাকার জন্য সঠিক ভঙ্গিতে বসা খুব জরুরি। আপনার মাথা যেন আসনের ওপরের অংশের সঙ্গে সমানভাবে হেলানো থাকে। ড্যাশবোর্ডে পা তুলে রাখা বা সামনের দিকে খুব বেশি ঝুঁকে থাকা একদম উচিত নয়। কারণ, ভুলভাবে বসলে এয়ারব্যাগ এবং সিট বেল্ট ঠিকমতো কাজ করতে পারে না।

কোন রঙের গাড়িতে পাখি সবচেয়ে বেশি মলত্যাগ করে

আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে সুরক্ষিত রাখে

দেশে অপ্রতুল হলেও আধুনিক গাড়িতে এখন এমন কিছু বিশেষ ব্যবস্থা থাকে, যা দুর্ঘটনা ঘটার আগেই চালককে সতর্ক করে দেয়। গাড়ি ভুল করে নিজের লেন থেকে বেরিয়ে গেলে বা আয়নায় দেখা যায় না, এমন জায়গায় কোনো যানবাহন থাকলে গাড়ি নিজেই সংকেত দেয়।

এমনকি সামনে হুট করে কিছু চলে এলে গাড়ি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক চেপে দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া গাড়ির ভেতরের কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়, যেন কোনো ধাক্কা লাগলে গাড়ির বাইরের অংশটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে সব আঘাত নিজে সামলে নেয় এবং ভেতরের যাত্রীরা কম চোট পান।

ছোটখাটো মনে হলেও গাড়ির আসনের ওপরের অংশ বা এয়ারব্যাগগুলো বড় দুর্ঘটনা থেকে আমাদের রক্ষা করে।

গাড়িতে ছোট শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ

শিশুদের জন্য গাড়ির সবচেয়ে নিরাপদ আসন কোনটি

গাড়িতে ছোট শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত পেছনের সারির মাঝখানের আসনটিই শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ, এ জায়গা জানালার কাচ বা দরজার ধাক্কা থেকে দূরে থাকে।

তবে সবচেয়ে জরুরি হলো শিশুদের জন্য বিশেষ চাইল্ড সিট বা ছোটদের বসার আসনটি সঠিকভাবে আটকানো।

যদি মাঝখানের আসনটি আটকানোর ব্যবস্থা না থাকে, তবে পেছনের ডান পাশের আসনটি ব্যবহার করা ভালো। এতে শিশুকে গাড়ি থেকে নামানো বা ওঠানো সহজ হয়।

এ ছাড়া অন্তত দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের আসনটি পেছনের দিকে মুখ করে রাখা উচিত। যতক্ষণ না শিশুর উচ্চতা ৪ ফুট ৯ ইঞ্চি হচ্ছে, ততক্ষণ সাধারণ সিট বেল্টের বদলে তাদের জন্য বুস্টার সিট ব্যবহার করা জরুরি।

গাড়ির সবচেয়ে বিপজ্জনক আসন কোনটি

গাড়ির সামনের যাত্রী আসন, অর্থাৎ চালকের পাশের আসন সবচেয়ে বিপজ্জনক। এটি ড্যাশবোর্ড ও সামনের কাচের একদম কাছে থাকে। ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় এ আসনে থাকা যাত্রীরা সরাসরি আঘাত পান।

ছোটদের জন্য এই আসন আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বড়দের জীবন বাঁচাতে এয়ারব্যাগ কাজ করলেও শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রচণ্ড ধাক্কা উল্টো মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তাই অন্তত ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের সব সময় পেছনের আসনে বসানো উচিত।
এমনকি বড়দের জন্যও এই আসন চালকের আসনের চেয়ে বেশি অনিরাপদ। এর দুটি বড় কারণ আছে।

প্রথমত, দুর্ঘটনার মুহূর্তে চালক সহজাতভাবেই নিজেকে রক্ষা করার জন্য গাড়ি ঘোরানোর চেষ্টা করে। এতে পাশের যাত্রীর দিকটি বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়ে এবং সরাসরি আঘাত পায়।

দ্বিতীয়ত, চালক সামনে তাকিয়ে থাকে বলে দুর্ঘটনার সংকেত আগে পায় এবং নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে। কিন্তু পাশের যাত্রী সাধারণত অপ্রস্তুত থাকে বলে আঘাতটা তার ওপর বেশি পড়ে।
সব মিলিয়ে নিরাপদ থাকতে পেছনের আসন ব্যবহার করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

সঠিকভাবে সিট বেল্ট পরা নিরাপদে থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

নিরাপদ থাকতে কী করবেন

গাড়ির সবচেয়ে নিরাপদ আসনে বসুন বা না বসুন, কিছু নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকি অনেক কমাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে পাঁচটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন।

১. সঠিকভাবে সিট বেল্ট পরা
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। সিট বেল্ট মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেয়। বেল্টের নিচের অংশটি পেটের ওপর না রেখে কোমরের হাড়ের ওপর রাখুন। আর ওপরের অংশটি বুকের মাঝখান দিয়ে নিন।

২. সিট ও হেডরেস্ট ঠিক করা
বসার পর মাথার পেছনের অংশটি, অর্থাৎ হেডরেস্ট আপনার উচ্চতা অনুযায়ী ঠিক করে নিন। এটি ঘাড়ের চোট ঠেকাতে সাহায্য করে। সিটে সব সময় সোজা হয়ে বসুন। সামনের দিকে ঝুঁকে থাকলে সিট বেল্ট বা এয়ারব্যাগ ঠিকমতো কাজ করতে পারে না।

৩. আলগা জিনিসপত্র সাবধানে রাখা
গাড়ির ভেতর থাকা ছোট জিনিসও দুর্ঘটনার সময় কামানের গোলার মতো বিপজ্জনক হতে পারে। মেঝেতে থাকা পানির বোতল বা ভারী ব্যাগ সংঘর্ষের সময় তীব্র বেগে ছিটকে এসে বড় আঘাত দিতে পারে। তাই এসব সব সময় নিরাপদ জায়গায় রাখুন।

৪. সচেতনভাবে গাড়ি চালানো
গাড়ি চালানোর সময় ফোন ব্যবহার করা বা অন্যদিকে মনোযোগ দেওয়া একদম উচিত নয়। সব সময় অন্য গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন এবং গতিসীমা মেনে চলুন। এতে কোনো বিপদ দেখলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আপনি যথেষ্ট সময় পাবেন।

৫. উন্নত প্রযুক্তির গাড়ি কেনা
গাড়ি কেনার আগে সেটির নিরাপত্তা রেটিং দেখে নিন। অন্তত ফাইভ স্টার রেটিং আছে, এমন গাড়ি বেছে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এ ছাড়া আধুনিক এয়ারব্যাগ ও স্বয়ংক্রিয় ব্রেক ব্যবস্থা আছে কি না, তা–ও দেখে নিন।

পেছনের মাঝখানের আসনটি হয়তো বসতে আরামদায়ক নয়, কিংবা সেখান থেকে বাইরের দৃশ্য খুব ভালো দেখা যায় না। কিন্তু নিরাপত্তার বিচারে এটিই গাড়ির সেরা আসন।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

কোন রঙের গাড়ি সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনায় পড়ে?

Read at source