দুঃসময় মোকাবেলায় ইসলামের ৫ নির্দেশনা
· Prothom Alo

আল্লাহ–তাআলা মানুষের জীবনকে একরৈখিক বা সমান্তরাল করেননি। কখনো সুখের প্রসারিত আকাশ, আবার কখনো দুঃখের ঘন মেঘ—এই দুইয়ের আবর্তনেই গড়ে ওঠে মানবজীবন।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
দুঃসময় তাই জীবনের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ নয়; বরং এটি ইমানের পরিমাপক এবং আত্মশুদ্ধির সুযোগ। মহান প্রতিপালক বিপদের মাধ্যমে দেখেন, কে তাঁর দিকে ফিরে আসে, আর কে বিমুখ হয়।
দুঃসময় এলে একজন প্রকৃত মুমিন ভেঙে পড়েন না। তিনি নেক আমল ও সবরের মাধ্যমে সংকট উত্তরণের পথ খোঁজেন। প্রতিকূল সময়ে মুমিনের করণীয় সম্পর্কে পাঁচটি মূলনীতি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ধৈর্য ও সংযমের আশ্রয় গ্রহণ
বিপদ হঠাৎ এসে মানুষকে বিচলিত করে। এমন মুহূর্তে ধৈর্যই হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রধান মাধ্যম। আল্লাহ–তাআলা বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)
ধৈর্য মানে শুধু মুখ বুজে সয়ে যাওয়া নয়; বরং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা এবং অভিযোগ না তোলা। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, “প্রকৃত ধৈর্য কেবল বিপদের প্রথম আঘাতেই প্রকাশ পায়।” (সহিহ বুখারি: ১২৮৩)
সবর বা ধৈর্য জীবনের আশ্রয়স্থলদুঃসময় এলে একজন প্রকৃত মুমিন ভেঙে পড়েন না। তিনি নেক আমল ও সবরের মাধ্যমে সংকট উত্তরণের পথ খোঁজেন।
২. তাকদিরে সন্তুষ্টি
হঠাৎ কোনো ক্ষতি বা শোকের মুহূর্তে মুমিন পাঠ করেন, “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন। অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।
এই বাক্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের জীবন ও সম্পদ আল্লাহরই আমানত। তিনি যা দিয়েছেন তা তাঁর অনুগ্রহ, আর যা তুলে নিয়েছেন তা তাঁর সিদ্ধান্ত। এই বিশ্বাস অন্তরে প্রশান্তি আনে। আল্লাহ বলেন, যারা বিপদে এই পাঠ করে, তাদের ওপর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে রহমত ও দয়া বর্ষিত হয়। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৬-১৫৭)
৩. নামাজ ও দোয়ায় নিবিষ্ট হওয়া
দুঃসময় হলো আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এক অনন্য সেতু। বিপদে পড়ে অনেকেই দিশেহারা হয়ে যান, কিন্তু মুমিন কষ্টকে ইবাদতের মাধ্যমে শক্তিতে রূপান্তর করেন। হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) যখন কোনো দুশ্চিন্তা বা সংকটের সম্মুখীন হতেন, তখন দ্রুত নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৯)
নামাজ মানুষের অন্তরকে দৃঢ় করে এবং দোয়া তাকে আশাবাদী হতে শেখায়। বেশি বেশি ইস্তিগফার ও তাসবিহ মানুষকে আল্লাহর রহমতের কাছাকাছি নিয়ে যায়।
কোরআন, সুরা ইনশিরাহ, আয়াত: ০৬নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।কঠিন সময়ে মহানবী (সা.)-এর জয়ের কৌশল৪. আত্মসমালোচনা ও তওবার সুযোগ
বিপদ সবসময় শাস্তি নয়, কখনো এটি সতর্কবার্তা ও সংশোধনের আহ্বান। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমাদের ওপর যে বিপদ আসে, তা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল; আর তিনি অনেক কিছু ক্ষমা করে দেন।” (সুরা শুরা, আয়াত: ৩০)
এই আয়াত মুমিনকে আত্মসমালোচনার সুযোগ করে দেয়। তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেন—কোথাও কোনো গাফলতি ছিল কি না? এভাবে বিপদ তখন গুনাহ মোচন ও আত্মোন্নতির সুবর্ণ সুযোগে পরিণত হয়।
৫. হতাশ না হয়ে আশার আলো আঁকড়ে ধরা
বিপদ যত গভীরই হোক, মুমিন সর্বদা আল্লাহর রহমতের ওপর আস্থাশীল। কারণ আল্লাহ স্বয়ং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, “নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।” (সুরা ইনশিরাহ, আয়াত: ০৬)
মুমিন বিশ্বাস করেন, আজকের অশ্রু হয়তো আগামী দিনের কল্যাণের বীজ। তাই তিনি নিরাশ হন না; বরং পরম তাওয়াক্কুলের সঙ্গে আগামীর পথে এগিয়ে চলেন।
রায়হান আল ইমরান: লেখক ও গবেষক
জীবিকার জন্য পরিশ্রম করা ইবাদত